আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-08-10T14:33:17+06:00
2026-08-10T14:33:17+06:00
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
চীনের বাজারে জার্মানির দাপট কমছে, বাড়ছে ঘাটতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম 
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে চীনে জার্মান পণ্যের রফতানি কমে যাওয়ায় দেশটি জার্মানির অন্যতম প্রধান রফতানি বাজারের তালিকায় নেমে নবম অবস্থানে চলে গেছে।

জার্মানি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্ট (জিটিএআই) প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চীনে জার্মানির রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি কমেছে। এ সময়ে রফতানির পরিমাণ ৩৭ বিলিয়ন ইউরোর নিচে নেমে এসেছে।

একসময় জার্মানির অন্যতম বড় রফতানি বাজার ছিল চীন। ২০২১ সালে দেশটি জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি বাজার হিসেবে অবস্থান করেছিল। ওই বছর জার্মানি চীনে প্রায় ১০৪ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রফতানি করে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপীয় পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সরবরাহ ও উৎপাদনের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে চীনে জার্মান পণ্যের চাহিদার ওপর।

চীন থেকে আমদানি বেড়েছে
রফতানি কমলেও চীন থেকে জার্মানির আমদানি বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন থেকে জার্মানির আমদানি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।

ফলে চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। গত বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ইউরোর ঘাটতি থাকলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

এ সময়ে দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি হয়েছে। এই অঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির মোট বাণিজ্যের তুলনায় প্রায় ৩ বিলিয়ন ইউরো বেশি।

জিটিএআইয়ের পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ করিন অ্যাবেলের মতে, চীনে জার্মান রফতানি কমার পেছনে দেশটির দুর্বল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় ভ্যালু চেইনের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, জার্মান কোম্পানিগুলোও এখন চীনের অভ্যন্তরেই উৎপাদন বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি চীনের আবাসন খাতের সংকট এবং আর্থিক চাপের মুখে থাকা স্থানীয় সরকারগুলোর বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় জার্মান পণ্যের চাহিদা আরও দুর্বল হয়েছে।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এগোচ্ছে চীন
কমার্জব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ভিনসেন্ট স্টামার বলেন, জার্মান পণ্যের ওপর চীনের নির্ভরতা কমে যাওয়ার প্রবণতা ইঙ্গিত করছে যে দেশটি পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রেও চীন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও কমেছে রফতানি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবও পড়ছে জার্মান রফতানিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতি চালুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান পণ্য রফতানি কমেছে।

তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির একক বৃহত্তম বিদেশি বাজার হিসেবে অবস্থান করছে। জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে জার্মানির রফতানি প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৭৪ বিলিয়ন ইউরোর কিছু বেশি হয়েছে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জার্মানির আমদানি ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫১ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসও জার্মানির বড় রফতানি বাজারগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সামগ্রিকভাবে জুন পর্যন্ত জার্মানির মোট রফতানি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮১৭ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

তবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যের অবনতি এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা জার্মান অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ভিনসেন্ট স্টামারের ভাষায়, ‘মেড ইন জার্মানি’ ব্র্যান্ডকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

জ/উ






Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]