স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউতা উপকূলে অভিবাসনপ্রবাহকে কেন্দ্র করে ইতালি ও স্পেনের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ওপর ইতালির নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এবার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে মাদ্রিদ। ইতালি থেকে আসা সব বিমান ও সমুদ্রপথের যাত্রীর ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছে স্পেন। খবর বিবিসির।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে স্পেনের এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক মাস এটি বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে সেউতায় মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী প্রবেশের পর একই ধরনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছিল ইতালি।
স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান থেকে যাত্রীদের নামতে দেওয়ার আগে তাদের ৫ থেকে ১০ শতাংশের নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইতালিও জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি বাছাইয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
এ পরিস্থিতিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। মেলোনি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
ইতালি ও স্পেনের মধ্যে কোনো স্থলসীমান্ত নেই। এরপরও সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীরা ইতালিতে চলে যেতে পারেন-এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে গত সপ্তাহে সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তির আওতায় অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা স্থগিত করে ইতালি। তবে মাদ্রিদ এই যুক্তি নাকচ করে এটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে।
গত শুক্রবার স্পেন রোমকে রোববারের মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তবে ইতালি জানিয়েছে, অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। দেশটির দাবি, ওই সময় সেউতায় নতুন করে অভিবাসীদের ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতালি জানিয়েছে, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অতিরিক্ত তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণে ইতালির বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি ও যাত্রীদের অপেক্ষার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে স্পেন জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি হবে বাছাইয়ের ভিত্তিতে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। তবে শনিবার মাদ্রিদে পৌঁছানো এক যাত্রী জানিয়েছেন, তাদের ফ্লাইটের সব যাত্রীকেই পাসপোর্ট দেখাতে হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করা বেশিরভাগ অভিবাসীকে কয়েক দিনের মধ্যেই ফেরত পাঠানো হয়। ওই সময় সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো সেউতায় অবস্থান করছে।
এদিকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মরক্কো থেকে সেউতায় ফের বড় ধরনের প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসি আরবি জানিয়েছে, এসব পোস্টের কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও গত সপ্তাহের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে বলে তারা মনে করছে না।
একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ঠিক কী কারণে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার দাবি করেছেন, অপরাধী চক্রের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। স্পেন সরকারও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
উল্লেখ্য, সেউতা ও মেলিলা নিয়ে মরক্কো ও স্পেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে। উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত এই দুই ভূখণ্ডের ওপর স্পেনের সার্বভৌমত্ব মরক্কো স্বীকার করে না।
জ/উ