২০২২ সালে আফ্রিকার দেশ মালির সাহারা মরুভূমিতে পাওয়া যায় গোলাপি রঙের একটি পাথর। ‘তেঘাজা ০০১’ নামের প্রায় ৮০০ গ্রাম ওজনের পাথরটি আসলে মঙ্গল গ্রহের একটি অংশ, যা ৪১০ কোটি বছরেরও বেশি সময় আগে গঠিত হয়েছিল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, খনিজ উপাদান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি পৃথিবীতে শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে প্রাচীন মঙ্গলগ্রহের উল্কাপিণ্ডগুলোর অন্যতম।
উল্কাপিণ্ডটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে প্রাচীন মঙ্গলগ্রহে পানির অস্তিত্ব ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। এর অক্সিজেন আইসোটোপ, গাঠনিক বৈশিষ্ট্য এবং রাসায়নিক উপাদানের প্রমাণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলগ্রহের প্রাচীন অতীতে পানির একটি সক্রিয় চক্র ছিল। এ গবেষণার ফল গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত পৃথিবীতে মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা প্রায় ৪৩৫টি উল্কাপিণ্ড শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন তিনটির একটি তেঘাজা ০০১। বাকি দুটি হলো ‘এএলএইচ৮৪০০১’ এবং ‘ব্ল্যাক বিউটি’। এএলএইচ৮৪০০১ প্রায় সম্পূর্ণ একটি খনিজ পদার্থ দিয়ে গঠিত এবং এর বয়স তেঘাজা ০০১-এর কাছাকাছি। অন্যদিকে, ব্ল্যাক বিউটি গঠিত হয়েছিল প্রায় ২১০ কোটি বছর আগে।
গবেষণায় তেঘাজা ০০১-এর প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আগ্নেয় উৎস থেকে তৈরি খনিজ পদার্থের একটি স্বতন্ত্র সমন্বয় পাওয়া গেছে। এসব খনিজের গঠন থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারছেন, ম্যাগমা শীতল হওয়ার সময় মঙ্গলগ্রহের ভূত্বক কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির সংস্পর্শে এসে শিলার বৈশিষ্ট্যে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল।
গবেষণার ফল বলছে, প্রায় ৪১০ কোটি বছর আগে পানির প্রভাবে উল্কাপিণ্ডটির শিলার গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছিল। এ থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, শিলাটি ওই সময়েরও আগে গঠিত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর গবেষকেরা প্রথম তেঘাজা ০০১-কে মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা উল্কাপিণ্ড হিসেবে শনাক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা পাথরটির অক্সিজেন আইসোটোপ বিশ্লেষণ করেন। অক্সিজেনের আইসোটোপগুলো ভূ-রাসায়নিক আঙুলের ছাপের মতো কাজ করে, যা কোনো নমুনার উৎস শনাক্ত করতে সহায়তা করে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে উল্কাপিণ্ডটিকে মঙ্গলগ্রহে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন উল্কাপিণ্ডের শ্রেণি ‘শেরগোটাইট’-এর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে হয়েছিল।
গবেষকদের মতে, তেঘাজা ০০১ নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করা হলে মঙ্গলগ্রহের শিলা ও পানির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গ্রহটির প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস গঠনে পানির ভূমিকা সম্পর্কেও নতুন তথ্য জানা যেতে পারে।
জ/উ