দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর চলতি চক্রে প্রথমবারের মতো তিন নম্বরে নেমে গেছে দলটি। এর আগে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজও ১-১ সমতায় শেষ করেছিল অজিরা। পরপর দুই সিরিজে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দল পুনর্গঠনের আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
কামিন্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রতিটি সিরিজ হারার পরই দলে পরিবর্তন আনার বিষয়টি সামনে আসে। এবারও সেটাই স্বাভাবিক। আমরা টানা দুটি ম্যাচ হেরেছি।’
তবে দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় চেয়েছেন অজি অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, ‘এই প্রশ্নগুলো তোলা যৌক্তিক। আমরাও নিজেদের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। আমরা সত্যিই খুব ভালো একটি দল। তবে আবারও এক নম্বর অবস্থানে ফিরতে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। হয়তো খেলার ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে খেলোয়াড় পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হতে পারে। আমাদের কয়েক সপ্তাহ সময় দিন, আমরা বিষয়টি গুছিয়ে নেব।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করার পরও ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় শীর্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের পর তাদের পয়েন্ট শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯.২৩-এ।
অন্যদিকে সিরিজজয়ী টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট শতাংশ ৬৬.৬৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭১.৪২। এর ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচের পঞ্চম দিনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদার তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। রাবাদা অজিদের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন। তাঁর শিকার হন ম্যাট রেনশ (০), মারনাস লাবুশেন (৪) ও ট্র্যাভিস হেড (১৪)।
এরপর স্পিন আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান সিমন হারমার। তিনি তুলে নেন ছয়টি উইকেট। ম্যাচ শেষে কামিন্স রসিকতা করে বলেন, রাবাদার করা প্রথম ওভারেই সম্ভবত টেস্ট ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
জ/উ