শেষ ৫ ওভারে দরকার ৬৮ রান। ৬ উইকেট হারানো ভারতের জয়টা তখন বেশ দুঃস্বাধ্যই মনে হচ্ছিল। তিলক বর্মার ২৬ বলে ৫১ রানের এক ‘টর্নেডো’ ইনিংসের সঙ্গে নিতিশ কুমার রেড্ডির ১৩ বলে ২৬ রানের নৈপুণ্যে এক বল হাতে রেখেই জয় পায় ভারত।
ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ৪ উইকেটে জিতেছে ভারত। ম্যাচে গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবসের ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৮০ রান করে স্বাগতিকরা।
রান তাড়ায় ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ঘোর বিপদে পড়ে। এরপরই সপ্তম উইকেটে তিলক বর্মা-রেড্ডির ৩১ বলে ৬৯ রানের দুর্দান্ত এক জুটিতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম উইকেটে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। ২০১৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনের ৮২ রানের জুটি শীর্ষে আছে।
এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল ভারত। আগামী মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড।
প্রথমে ব্যাটিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। দলীয় ৪১ রানের মধ্যেই তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
তবে চতুর্থ উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবসের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ‘ব্ল্যাক ক্যাপরা’। ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা। অন্যদিকে জ্যাকবস ৪৬ বলে ৫৮ রান করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। শেষ দিকে মাইকেল ব্রেসওয়েলের দ্রুত ১০ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮০ রান তুলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড।
ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং দুটি উইকেট নেন। এ ছাড়া ভুবনেশ্বর কুমার, প্রিন্স যাদব ও নীতিশ কুমার রেড্ডি একটি করে উইকেট পান।
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা মন্দ ছিল না ভারতের। তবে ৪০ রানে প্রথম উইকেট হারানো সফরকারীরা ৭০ রান তুলতেই ৫ উইকেট খুঁইয়ে বসে। সঞ্জু স্যামসন ১৪ রান করে আউট হন। অন্যদিকে তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী ৮ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। উইকেটে থিতু হয়ে ২১ বলে ২৭ করা অভিষেক শর্মাও দলের ইনিংস বড় করতে পারেননি।
অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই মূলত ঘূর্নিতে ভারতের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন মিচেল সেন্টনার। একে একে ফেরান অভিষেক শর্মা, আইয়ার, প্যাটেল ও নামান ধীরকে।
ধীর আর তিলকের ষষ্ঠ উইকেটের জুটি যোগ করে ৪২ রান। ১৭ বলে ৩১ করে আউট হন ধীর। আর এরপরই শুরু সপ্তম উইকেটের সেই ম্যাচ জেতানো জুটি।
জ/বা