ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার ২০২৬’ জিতে ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। তাঁর এই অর্জনে আবেগঘন বার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছে সাবেক ক্লাব এফসি বার্সেলোনা। ২০২১ সালে অশ্রুসিক্ত চোখে যে ক্লাবকে বিদায় জানাতে হয়েছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে, সেই ক্লাবের উষ্ণ শুভেচ্ছা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের ওভিয়েদোর কাম্পোয়াম থিয়েটারে স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা লিওনরের কাছ থেকে সম্মানজনক এই পুরস্কার গ্রহণ করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তাঁর পুরস্কার জয়ের খবর প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ বার্তা দেয় বার্সেলোনা।
ক্লাবটির আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলা হয়, ‘২০২৬ সালের ক্রীড়া প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জেতায় লিও মেসিকে অভিনন্দন। তোমার অসাধারণ প্রতিভার জন্য এই স্বীকৃতি পুরোপুরি প্রাপ্য। মাঠে ও মাঠের বাইরে তোমার অবদান স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তোমার অসাধারণত্ব, খেলাধুলার প্রতি অঙ্গীকার এবং মানবিক সংহতির মাধ্যমে তুমি বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছ।’
মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছে কাতালান ক্লাবটি। বার্সেলোনার মতে, মেসির বর্ণাঢ্য ও সফল ক্যারিয়ারে ক্লাবটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাঁদের সম্পর্ক কেবল অতীতের সাফল্যের স্মৃতি নয়, বরং বার্সেলোনার ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেসির সঙ্গে এই বন্ধন সব সময় ক্লাবটির গর্বের উৎস হয়ে থাকবে।
বার্সেলোনার অভিনন্দনবার্তায় বিশেষ আবেগ যোগ করেছে ২০২১ সালের বিচ্ছেদের ঘটনা। দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্কের ইতি টেনে সেবার অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল মেসিকে। আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে পারেনি বার্সেলোনা। এরপর ফরাসি ক্লাব প্যারিস সাঁ জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবল তারকা।
মেসির এই সম্মাননা ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর স্পেনে মেসিকে এই পুরস্কার না দেওয়ার দাবিতে কয়েকটি আবেদন ও পিটিশন জমা পড়ে। তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন মেসির নাম চূড়ান্ত রাখে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন মেসি। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার যাত্রা। ক্লাবটির মূল দলের হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব ও নৈপুণ্যে বার্সেলোনা জিতেছে ১০টি লা লিগা এবং চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। সূত্র: গোল ডট কম
জ/উ