বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের দীর্ঘদিনের ভক্ত অভিনেত্রী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। শৈশবে তাঁর পড়ার টেবিল কিংবা দরজায় ঝুলত প্রিয় তারকার ছবি। সেই ছোটবেলার স্বপ্নের নায়ককে একসময় সামনাসামনি দেখার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমান খানের সঙ্গে দুটি ছবি প্রকাশ করে সেই স্মৃতির কথা জানিয়েছেন চাঁদনী।
ফেসবুকে ছবি দুটি শেয়ার করে চাঁদনী লিখেছেন, ‘আমার সাল্লুর সঙ্গে। যারা আমার সাক্ষাৎকার দেখে বলেছিলেন, চাপা, এই ছবি তাদের জন্য।’
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালের দিকে বাংলাদেশে সালমান খানের আসার খবর শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে টিকিট কেটেছিলেন চাঁদনী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় মন খারাপ হয়ে যায় তাঁর। তবে প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে দেখা করার আশা ছাড়েননি তিনি।
কিছুদিন পর চাঁদনী জানতে পারেন, সালমান খান ঢাকায় এসে শেরাটন হোটেলে উঠেছেন। হোটেলটির বর্তমান নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা। খবরটি পাওয়ার পর নানা কৌশলে সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।
সেই ঘটনার স্মৃতিচারণা করে চাঁদনী জানান, তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম এবং চিত্রগ্রাহক মহসিন ভাই। সালমান খানের রুমের ঠিকানা জোগাড় করে সেখানে গিয়ে দেখেন, অভিনেতা একাই রয়েছেন। অনুমতি নিয়ে প্রিয় তারকার পাশে গিয়ে দাঁড়ান তিনি।
তখন স্কুলপড়ুয়া চাঁদনী নিজের নাম ও পরিচয় জানানোর পর সালমান খান তাঁকে একটি অটোগ্রাফ দেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘চাঁদনী, ফর ইয়োর সালমান।’
প্রিয় তারকার সেই চাহনি ও কথা বলার মুহূর্ত আজও ভুলতে পারেননি এই অভিনেত্রী। সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরে চাঁদনী বলেন, ‘আমি সেদিন সালমান খানের হাত ধরে ছিলাম। যত সময় ছিলাম, পুরো সময়টাই হাত ধরে ছিলাম। তিনি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন। পরে অটোগ্রাফে লিখে দিলেন। তিনি একটু লাজুক টাইপের ছিলেন। নাম জিজ্ঞাসা করার সময় তিনি আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। সেই চাহনি এখনও আমার মনে আছে।’
শৈশবের সেই উন্মাদনার কথা বলতে গিয়ে চাঁদনী জানান, সালমান খানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার পর টানা সাত দিন তিনি সেই হাত ধোননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সালমান খানের সঙ্গে দেখা হওয়ার পুরো সময় তাঁকে ধরে ছিলাম, হ্যান্ডশেক করেছিলাম। পরে বাসায় এসে সাত দিন ওই হাতই ধুইনি। এটা আসলে কিশোর মনের একটা পাগলামি ছিল। ক্রেজি ফ্যান বলতে যা বোঝায়।’
১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ দেখার পর থেকেই তাঁর প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় চাঁদনীর। শৈশবের সেই ভালো লাগা ও প্রিয় তারকাকে ঘিরে উন্মাদনা থেকেই একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজেছিলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আজও চাঁদনীর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।
জ/উ