একসময় ভ্যান চালিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাতেন সামসুল ইসলাম। নিজের পরিশ্রমে দুই মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর একা চলাফেরা করতে পারেন না ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করতেও তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন অসহায় অবস্থায় একটি হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখের পানি মুছতে মুছতে কেঁদে ফেলেন সামসুল।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ৫নং ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের বাসিন্দা সামসুল ইসলামের দুরবস্থার খবর পেয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। চলাফেরার কষ্ট লাঘবে তাঁকে একটি হুইল চেয়ার দেন তিনি। হুইল চেয়ার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সামসুলের জীবনের সংকট কাটেনি। তাঁর অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বয়স্ক ভাতা। কেন ভাতা বন্ধ হয়েছে, তা-ও জানেন না তিনি। ফলে বর্তমানে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে তাঁর।
একসময় যিনি ভ্যান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্ব সামলেছেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিকেই এখন অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারানো সামসুলের কাছে হুইল চেয়ারটি চলাফেরার অবলম্বন হলেও নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী, মিলন মিয়া, উপজেলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ, পৌর সচিব হাসান আলী, সাংবাদিক দিল মোহাম্মদ, আলহাজ্ব মোঃ দুলাল সরকার, আহবায়ক গুরুদাসপুর পৌর বিএনপি, মো. সেলিম শাহ, সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে সামসুলের চলাফেরায় কিছুটা স্বস্তি এলেও তাঁর বন্ধ হয়ে যাওয়া বয়স্ক ভাতা পুনরায় চালু করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে জীবনের শেষ সময়ে অন্তত ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন এই প্রবীণ।
জ/উ