ডেঙ্গুর চাপে নাজুক মহেশখালীর স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজন বাড়তি শয্যা ও জনবল

মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-10-12T19:41:31+06:00
2026-10-12T19:41:31+06:00
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
ডেঙ্গুর চাপে নাজুক মহেশখালীর স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজন বাড়তি শয্যা ও জনবল
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
⏲ ৭:৪১ পিএম | ১২ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবার
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় চাপে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা ও জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দা, করিডর ও মেঝেতে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। এ পরিস্থিতিতে বাড়তি শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বরাদ্দের দাবি উঠেছে।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী বহির্বিভাগের গলি, অন্তর্বিভাগের বারান্দা ও ভবনের মেঝেতে চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ল্যাবরেটরি ও মেডিসিন কর্নারের সামনেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সরকারি ওষুধ সংগ্রহের জন্য রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্বীপের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব আমেনা খাতুন নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, কয়েক দিন ধরে শরীরব্যথা ও প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। হাসপাতালে এসে বসার জায়গাটুকুও পাননি। শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্টে মেঝেতে জায়গা নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান ছোট মহেশখালীর বাসিন্দা আব্দুর রহিম। ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুসন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে এলেও শয্যা পাননি তিনি। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে আব্দুর রহিম বলেন, হাসপাতালে শয্যা খালি নেই। চিকিৎসকেরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওষুধ ও পর্যাপ্ত জায়গার সংকট রয়েছে।

হাসপাতালে ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী আসার কথা স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক। তিনি জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রোগীর স্বজনেরা কখনো উত্তেজিত হয়ে পড়লেও চিকিৎসকেরা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন।

ওই চিকিৎসক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বরাদ্দ না পেলে রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

গত ৫ অক্টোবর ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মুজাহিদ নামে এক কলেজছাত্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো মহেশখালীতে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক জানান, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মহেশখালীতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে পানের বরজে কাজ করা মানুষ ও মাঠপর্যায়ের শ্রমজীবীদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। উপজেলার ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর ও হোয়ানক ইউনিয়নে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

ডা. মাহফুজুল হক বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের নিজস্ব পরীক্ষাগারে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তবে বাইরের পরীক্ষাগারেও অনেকে পরীক্ষা করায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এ সময়ে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ৩০৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ এ সময়ে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উপাত্ত ও আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছেছে। তবে মূল ভূখণ্ডের বাইরে দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় মহেশখালী থেকে সংকটাপন্ন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

দ্বীপের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সমাজসেবী ও সচেতন নাগরিকেরা। স্থানীয় তরুণ সাদেক হোসেন তৈয়ব বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে চলাচলের জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। জরুরি বিভাগ ও পরীক্ষাগারে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হচ্ছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তাঁদের অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অননুমোদিত ও ভুয়া চিকিৎসকদের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, হাসপাতালের শয্যা ও জনবল বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে এবং অসুস্থ স্বজনেরা সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরবেন।

জ/উ


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত