বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যাচ্ছেন না ড. ইউনূস, অংশ নিচ্ছেন জোবাইদা রহমান

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-11T17:57:20+06:00
2026-10-11T17:57:20+06:00
রোববার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যাচ্ছেন না ড. ইউনূস, অংশ নিচ্ছেন জোবাইদা রহমান
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৫:৫৭ পিএম | ১১ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে আজ রোববার শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’। সম্মেলনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। তবে এতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

আয়োজকদের আগে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এই দুই অতিথির রোববার ও সোমবার দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন’। বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বার্লিনে সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময় ও সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলন প্রতি বছর আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খোঁজাই এর মূল লক্ষ্য। সম্মেলনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে।

সম্মেলনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি ও পিটিশন পাঠায়।

পিটিশনটি যৌথভাবে দাখিল করে সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম; ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য; ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি; আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।

পিটিশনে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। এতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ২ হাজার ৯৭৩টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত ১৬৬টি এবং নিশ্চিত ৩০টি মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান সংক্রমণ, বিপুলসংখ্যক টিকাবিহীন বা টিকা-ঘাটতিসম্পন্ন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতির কারণে জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ বলে মূল্যায়ন করেছিল।

পিটিশনকারীদের বক্তব্য, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব প্রশ্ন উঠে এসেছে, সেগুলোর স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাদের মতে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব প্রশ্নের দায় এড়াতে পারেন না।

সংগঠনগুলোর মতে, এসব প্রশ্ন শুধু একটি নির্দিষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং দেশের জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গেও জড়িত।

এ প্রেক্ষাপটে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের আয়োজকদের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনগুলো। এর মধ্যে রয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ বক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। তাঁর আমন্ত্রণ বহাল থাকলে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং হাম প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিশু চিকিৎসক, টিকাদান বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা।

ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের স্মারকলিপি ও পিটিশনের পাশাপাশি জার্মান আওয়ামী লীগ এবং জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকেও সম্মেলনস্থলের বাইরে বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে ৪০০ বিক্ষোভকারীর অংশগ্রহণের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।

শনিবার বার্লিন পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের আয়োজক মিজানুর হক খানকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেসবিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মার জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাস্থ্যগত কারণে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এতে অংশ নেবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

ডা. জোবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক। পেশাগত ভূমিকার পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সংস্কার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরের ১৪ থেকে ১৯ অক্টোবর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিবর্তন’।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত