ইউক্রেনে রুশ হামলায় ৫ শিশুসহ নিহত ২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় দেশটিতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।

2026-10-08T09:24:32+06:00
2026-10-08T09:24:32+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনে রুশ হামলায় ৫ শিশুসহ নিহত ২৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ৯:২৪ এএম | ৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় দেশটিতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।

চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই পাঁচ শিশু প্রাণ হারায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনটির জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ পরিণত হয় পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ হামলায় মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন।

হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন শিশুও রয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

চেরনিহিভের প্রিলুকির ৪০ বছর বয়সী নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, (হামলার সময়) আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম। অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, তখন আমরা সেখানেই ছিলাম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে রুশ হামলা শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার সম্ভাব্য একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই সতর্কবার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রাও বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজতে থাকায় উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো একটি প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে এএফপিকে বলেন, আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।

তিনি বলেন, পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে এ ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’। একই সঙ্গে তিনি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন।

প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের কাছেই বসবাসকারী অনলাইন মার্কেটিংকর্মী ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না। সূত্র: এএফপি

জ/শা



  বিষয়:   ইউক্রেন  রুশ বাহিনী  ড্রোন  ক্ষেপণাস্ত্র  হামলা 


Advertisement
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত