চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার চাঞ্চল্যকর অভিযান

জবাবদিহি ডেস্ক

অন্যান্য

2026-10-07T13:00:02+06:00
2026-10-07T13:00:02+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
অন্যান্য
চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার চাঞ্চল্যকর অভিযান
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১:০০ পিএম | ৭ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবার
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণার আড়ালে কাটা বা খণ্ডিত গাড়ি আমদানির ঘটনা শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। সন্দেহভাজন একটি পণ্যচালানের কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে ব্যবহৃত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ঘোষণা থাকলেও পাওয়া যায় খণ্ডিত অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার, একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাক।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

কায়িক পরীক্ষার সময় প্রথমে খণ্ডিত অবস্থায় দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’, ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি এবং মডেল বছর ২০০৯ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির সঠিক মডেল সাল, চেসিস নম্বর, ভিআইএন এবং আমদানির বৈধতা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

এনবিআর জানায়, চালানটিতে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অর্ধাংশ বা খণ্ডিত সামনের অংশও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি ২০১৬ সালের মডেল এবং এর ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। বিশেষভাবে সন্দেহজনক বিষয় হলো, চালানটিতে গাড়িটির কেবল সামনের অংশ পাওয়া গেছে। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে বা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া চালানটিতে পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাক পাওয়া যায়। প্রতিটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘোষণায় উল্লেখ করা পণ্য এবং কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের ধরন ও অবস্থার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। ঘোষণায় কারচুপি, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে পুনরায় সংযোজনের কোনো কৌশল নেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অর্ধাংশের অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট অন্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর বিস্তারিত তালিকা, চেসিস ও ভিআইএন, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য এবং প্রযোজ্য আমদানি নীতি ও শুল্ক-কর যাচাই করা হবে।

যাচাই শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির চেষ্টা শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে সংস্থাটি।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত