নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ নাহিদ, দায়ী করলেন সিন্ডিকেটকে

জবাবদিহি ডেস্ক

রাজনীতি

আবারও ভয়ংকর সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

2026-10-06T15:19:25+06:00
2026-10-06T15:19:25+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
রাজনীতি
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ নাহিদ, দায়ী করলেন সিন্ডিকেটকে
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৩:১৯ পিএম | ৬ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
নাহিদ ইসলাম
আবারও ভয়ংকর সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেন, এক কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকা। গত দুই মাস ধরে এমন অস্বাভাবিক দামে এই ফলটি বিক্রি হচ্ছে। নথিপত্র বলছে, আমদানিতে প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য মাত্র ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ ও মুনাফা মিলিয়ে প্রতি কেজি মাল্টার সর্বোচ্চ খরচ হওয়ার কথা ২১০ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম কোনোভাবেই ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

তাহলে এত বেশি দামে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে কেন প্রশ্ন রেখে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বলা হচ্ছে, সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। অথচ নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। তাহলে সরবরাহ সংকটের এই যুক্তি কতটা যৌক্তিক? এর অর্থ দাঁড়ায়, গত দুই মাসে জনগণের পকেট থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অসাধু সিন্ডিকেট।

১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায় জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ লিখেন, অথচ সুগন্ধি চাল সম্পূর্ণ দেশেই উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ এই পণ্যের দামের ওপর কোনো যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব পড়ার কথা নয়। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল। বলা হচ্ছে, বিদেশে রপ্তানির কারণে দাম চড়া। অথচ ২০০৯ সালে রপ্তানি শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ২০২৫ সালে। তখনও এর দাম ১২০ টাকার বেশি হয়নি। হিসেব করলে দেখা যায়, শুধু পোলাওয়ের চাল থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে ডিমের দাম ছিল প্রতি ডজন গড়ে ১২০ টাকা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। দরিদ্র মানুষের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস একটি ডিম কিনতে এখন ১৫ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধির অযুহাত দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যে হারে খাবারের দাম বেড়েছে তাতে প্রতিটি ডিমের দাম ১ টাকার মতো বাড়ার কথা। বেড়েছে পাঁচ টাকা। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ডিমের বাড়তি দামের কারণে জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা চলে গেছে।

সরকার কয়েক দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপরও প্রতিটি সিলিন্ডারে সরকার নির্ধারিত দাম থেকে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে, আমদানি পর্যাপ্ত। তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে? 

এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কোন পণ্যের দাম বাড়েনি প্রশ্ন রেখে নাহিদ বলেন, চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজি, প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৬০ টাকায় রেখে যাওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা। কয়েক দিন আগেই বেড়েছে দুধের দাম। মানুষের আয় বাড়েনি, অথচ প্রতিনিয়ত বেড়েছে বেঁচে থাকার খরচ। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে সিন্ডিকেটের কালো থাবা থেকে অনেকটাই রেহাই পেয়েছিল দেশের মানুষ। কিন্তু নির্বাচনের পর কার মদদে, কার ইন্ধনে সেই সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, আমাদের জানতে ইচ্ছে করে। 

তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিতে এমনিতেই হাঁসফাঁস করছে দেশবাসী। এর মধ্যে আবারও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে দেশের মানুষ। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ লুটের এই বন্দোবস্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

পোস্টে এ দেশের মানুষের জীবন নিয়ে আর কোনো অপশক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও জানান এনসিপির এই নেতা।


জ/রা


  বিষয়:   সোশ্যাল মিডিয়া  নাহিদ ইসলাম  নিত্যপণ্য  এনসিপি 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত