রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সংস্কার করা ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করা হয়েছে।
সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতের দেয়ালে স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, সত্যজিৎ রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি।
আজ সোমবার সকালে সেগুনবাগিচায় উদ্ধার করা ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থান রয়েছে এবং তাদের সেখানেই ব্যবসা করতে হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার নিষিদ্ধ স্থানে বসলে মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কাউকে উচ্ছেদ করা কিংবা গরিব হকারদের পুঁজির ক্ষতি করা ডিএসসিসির উদ্দেশ্য নয়। এ কারণে হকারদের জন্য বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দিন আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, কোথাও মূল রাস্তা বন্ধ করে কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ফুটপাতে হকার বসানো যাবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যে স্থান দিয়ে আগে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারত না, নিরলস প্রচেষ্টায় সেটিকে হকারমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি।
তিনি বলেন, কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত এলাকাটি পরিষ্কার রাখবেন। তবে সৌন্দর্য ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিল্পকলা একাডেমি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সবশেষে ঢাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি ঢাকাবাসীর সবার নাগরিক দায়িত্ব।
জ/উ