ইনুর নির্দেশনা সেনা কমান্ডারের চেয়েও শক্তিশালী ছিল: প্রসিকিউটর

জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-10-05T16:03:12+06:00
2026-10-05T16:03:12+06:00
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আইন-আদালত
ইনুর নির্দেশনা সেনা কমান্ডারের চেয়েও শক্তিশালী ছিল: প্রসিকিউটর
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৪:০৩ পিএম | ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবার
সংগৃহীত ছবি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নির্দেশনা একজন সেনা কমান্ডারের নির্দেশের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে পরবর্তী সময়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তা করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রসিকিউশন আপিল করেছে।

তিনি বলেন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের সাজা প্রসিকিউশনের কাছে অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে। এ কারণে ১১টি গ্রাউন্ডের ভিত্তিতে ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন, সেগুলোতেও একই সাজা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

তামিম বলেন, কোনো মামলায় সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধের ভয়াবহতা ও গভীরতা বিবেচনায় নিতে হয়। অর্থাৎ অপরাধের কারণে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন-এসব বিষয়ও বিবেচ্য। ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষণও প্রসিকিউশনের আপিলে তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁর দাবি, ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে অপরাধের যে চিত্র তুলে ধরেছে, তার সঙ্গে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণেই সাজা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে আপিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, ‘সিভিলিয়ান সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে ইনুর দেওয়া নির্দেশনা একজন আর্মি কমান্ডারের নির্দেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের আইনও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, একজন আর্মি কমান্ডার অধীনস্থদের কোনো নির্দেশ দিলে তাঁরা তা মানতেও পারেন, নাও মানতে পারেন। কিন্তু একজন সিভিলিয়ান সুপিরিয়র লিডার অধীনস্থদের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আদেশই দেন না; তাঁর বক্তব্য ও বক্তৃতার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের একটি পরিবেশও তৈরি হয়। আর্মি কমান্ডার যেখানে শুধু নির্দেশ দেন, সেখানে একজন সিভিলিয়ান লিডার নির্দেশনার পাশাপাশি বক্তৃতা দেন, যা অধীনস্থরা অনুসরণ করেন।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রসিকিউশনের আপিল গ্রহণ এবং ইনুর সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত