ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে কূটনীতির পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছে তেহরান। এ ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগের দিন তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছিল।
দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ৫৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৫৬ ডলার।
যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলে গতকাল বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, মার্কিন চাপের কাছে তেহরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
ইরানের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের জবাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার পরোক্ষ আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এর আগে গতকাল বুধবার ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে অনেক সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক বিকল্পও রয়েছে।
এদিকে ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়েও বাজারে আলোচনা হয়েছে।
গতকাল দুপুরের লেনদেনে অতি-নিম্ন সালফারযুক্ত ডিজেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। এর আগে সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ৯০ দিনের জন্য ডিজেল রপ্তানি বন্ধের পরিকল্পনা করছে। তবে হোয়াইট হাউজ এ খবর অস্বীকার করেছে।
পরে আরেক মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট মঙ্গলবার রাতে তেলশিল্পের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
রাইট এর আগে বলেছিলেন, ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া কার্যকর হবে না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এমন পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন।
বিশ্লেষক ও বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে জ্বালানির উচ্চ দাম কমাতে তেমন কাজে আসবে না। বরং এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৩০ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪২ কোটি ৬৪ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা তেলের মজুদ ৬ লাখ ৪১ হাজার ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করেছিলেন। তবে জ্বালানি মজুদ কমেছে। সূত্র : রয়টার্স
জ/রা