সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে এসব রুটে মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে ২৯৩ জন। অথচ চলতি বছর সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসী ও শরণার্থীদের আগমন প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনও উদ্বেগজনক হারে মারা যাচ্ছে ও নিখোঁজ হচ্ছে। তার মতে, পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন।
প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের অন্যতম এই পথে গত বছর মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ২৮৪ জন, যা চলতি বছর বেড়ে ৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
আইওএম জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা নৌদুর্ঘটনা ও আগমনের ঘটনাগুলো এ পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ইউরোপে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান রুট লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া। লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে দেশটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইওএমের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ আগমন কমলেও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় প্রাণহানি বেড়েছে।
আইওএমের মতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমানোর পাশাপাশি সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সংস্থাটি বলছে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিপজ্জনক নৌযাত্রায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
জ/উ