কানাডাকে ইইউর ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-09-16T16:43:04+06:00
2026-09-16T16:43:04+06:00
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
কানাডাকে ইইউর ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার প্রস্তাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন। ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

আজ বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রস্তাব তুলে ধরেন ফন ডার লায়েন। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফন ডার লায়েন বলেন, কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার পথ উন্মুক্ত করতে তিনি মার্ক কার্নির সঙ্গে কাজ করতে চান। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে জোট গঠনের উদ্যোগ নয়; বরং ইউরোপ ও কানাডার যৌথ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা।

তবে ইইউর বর্তমান চুক্তিতে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ নামে কোনো মর্যাদা নেই। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের জন্য নতুন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে। এর বিস্তারিত রূপ এখনও নির্ধারিত হয়নি। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে ইইউর সদস্যদেশগুলোর সম্মতিও প্রয়োজন হতে পারে।

বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র

ফন ডার লায়েন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইইউ ও কানাডার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা রয়েছে।

তিনি জানান, ইউক্রেন, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল এবং সরবরাহব্যবস্থার মতো বিষয়ে ইউরোপ ও কানাডা একসঙ্গে কাজ করেছে। গণতন্ত্রের প্রতি দুই পক্ষের অঙ্গীকারও তাদের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ও তুলে ধরেন ফন ডার লায়েন। সাম্প্রতিক আলোচনায় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আর্কটিক অঞ্চল নিয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

ইইউ ও কানাডার মধ্যে এরই মধ্যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত করার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে উদ্যোগ

কানাডাকে ঘিরে ইইউর নতুন এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে অটোয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি পূর্ণ সদস্যপদের বদলে বিশেষ ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অটোয়া ইতোমধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করা দেশটির বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ কারণেই কার্নির ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ইউরোপ সফরের কর্মসূচিতে স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়া এবং ইইউর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে উপস্থিত থাকার বিষয়টি রাখা হয়েছে।

‘কারও বিরুদ্ধে নয়’, বার্তা ব্রাসেলসের

কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা নয়—এমন বার্তাই দিয়েছেন ফন ডার লায়েন।

তিনি বলেন, ইউরোপের অংশীদারত্বগুলো কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয়। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ইউরোপের অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন।

ফন ডার লায়েন তাঁর বক্তব্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও মন্তব্যটি বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ দেখা দিয়েছে।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব

কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো আরও বিস্তৃত করার একটি ধারণাও সামনে এনেছেন ফন ডার লায়েন। তিনি একটি ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, কানাডা ও নরওয়ের মতো ইউরোপের বাইরের ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়াকে ঘিরে ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে এ ধরনের কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নেতাদের একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্ম গঠনের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বর্তমান ঝুঁকির ধরন ও মাত্রার কারণে সেই উদ্যোগ এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

ফন ডার লায়েনের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা পরিষদের বিস্তারিত কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও ইউক্রেনের মতো ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের নিয়ে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

কানাডা-ইইউ সম্পর্কে নতুন কাঠামোর সম্ভাবনা

কানাডা ও ইইউর মধ্যে এরই মধ্যে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ) নামে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। নতুন ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ ধারণা বাস্তবায়িত হলে এই বিদ্যমান সম্পর্কের বাইরে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে আরও গভীর সহযোগিতার কাঠামো তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কানাডার সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক প্রচলিত বাণিজ্য অংশীদারত্বের চেয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থার মতো কৌশলগত খাতে দুই পক্ষের পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়তে পারে।

তবে বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ মর্যাদার কোনো প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামো ইইউতে নেই। এটি বাস্তবায়নে সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক সম্মতি এবং বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন হবে। ফলে কানাডার সঙ্গে ইইউর প্রস্তাবিত নতুন সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেবে, তা পরবর্তী আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাব নিয়ে কানাডার অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে কানাডা-ইইউ সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেবল বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার আরও বিস্তৃত কাঠামো পাবে-তা পরবর্তী আলোচনায় স্পষ্ট হবে। সূত্র: বিবিসি

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]