ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পড়া না পারায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে আঘাত করে হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাঞ্ছারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীর ডান হাতে প্লাস্টার করা হয়েছে। ঘটনার পর শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি আতঙ্ক ও মানসিক ভীতির মধ্যে দিন কাটছে তার।
অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম শামসুন্নাহার বেগম। তিনি উপজেলার চর মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে পড়া নিয়ে শিক্ষিকা শামসুন্নাহারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষে থাকা শক্ত বেত দিয়ে শিক্ষিকা তাকে মারধর করে বলে জনান তিনি।
পরিবারের দাবি, বেতের আঘাতে শিক্ষার্থীর পিঠ ও হাতে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তার ডান হাত অকেজো হয়ে পড়ে। তীব্র ব্যথায় চিৎকার করে সে মাটিতে পড়ে যায়। পরে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা জানান, শিক্ষার্থীর ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তার পুরো হাতে প্লাস্টার করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পড়া পারেনি, তাই একটু শাসনের ব্যবস্থা করেছি। তাতেই হাত ভেঙে গেছে। ওটা ঠিক হয়ে যাবে।” অনিয়ম হলে স্কুল কমিটি বিষয়টি দেখবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই শিক্ষিকার আচরণ রুক্ষ। সামান্য ভুলত্রুটি হলেই তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর চড়া হন। এর আগেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি তাঁদের। তবে ভয়ে অনেক অভিভাবক বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সন্তানের এমন অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শিক্ষার্থীর মা-বাবা। অটোরিকশাচালক বাবা-মা বলেন, তাঁরা অসহায়। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁরা যথাযথ বিচার চান।
ঘটনার বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি আগে ঘটনাটি জানতেন না। সাংবাদিকের কাছ থেকে জানার পর বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জ/রা