ভারতের গুজরাট থেকে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে। আবার যে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই ইলিশ পাঠাচ্ছেন, তারাই এখন বাংলাদেশ থেকে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ নেওয়ার অনুমতি চাইছেন। দুই দেশের বাজারে ভিন্ন ধরনের চাহিদার কারণে ইলিশ নিয়ে এমন দ্বিমুখী বাণিজ্য তৈরি হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটের ভারুচ থেকে আসা ইলিশের প্রতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ মূলত মাছের ডিমের কারণে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীদের চাহিদা বাংলাদেশের পদ্মা-মেঘনার সুস্বাদু ইলিশে। দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আবেদন করেছে।
হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, গত দুই থেকে তিন মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন পাঠানোর বরাত রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২২টি প্রতিষ্ঠান ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। এসব মাছের আমদানিমূল্য ছিল ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভারত থেকে মোট প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি ইলিশ এসেছে।
এর মধ্যেই গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ থেকে ইলিশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সময়ে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠানও ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গুজরাটের ইলিশে ডিমের পরিমাণ বেশি। যা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে এই ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মাছ থেকে ডিম আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করছেন। এসব ডিম পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে।
মাছের বাকি অংশও ফেলে দেওয়া হচ্ছে না। লবণ দিয়ে সংরক্ষণ, শুকানো বা অন্যভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা আলাদা। স্বাদ ও পরিচিতির পাশাপাশি দুর্গাপূজার সঙ্গে এই মাছের দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই পূজার আগে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ পেতে ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের কাছে আবারও রপ্তানির অনুমতি চাইছেন।
বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাতেও প্রক্রিয়াজাত ইলিশের ডিম বিদেশে রপ্তানির তথ্য উঠে আসে। গবেষণায় চাঁদপুর থেকে সংগ্রহ করা ইলিশের ডিম চট্টগ্রামে প্রক্রিয়াজাত করে ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, প্রতিবছর ইলিশের ডিম চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশে এবং লোনা ইলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এসবের হিসাব বা পরিসংখ্যান মৎস্য অধিদপ্তর রাখে না।
জ/রা