আমাদের বলা হচ্ছে, পৃথিবী ‘গ্লোবাল নর্থ’ এবং ‘গ্লোবাল সাউথে’ বিভক্ত। কিন্তু এর অর্থ আসলে কী? কী অর্থনৈতিক পার্থক্য? ২০টি শীর্ষ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির সাতটি ‘দক্ষিণে’ অবস্থিত। ‘দক্ষিণে’ কিছু দেশ তাদের প্রতিবেশীদের তুলনায় ৮০ গুণ ধনী। জলবায়ুর পার্থক্য? জলবায়ুর পরিবর্তন বিশ্বের প্রতিটি দেশকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র এবং সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোকে। ১০টি বৃহত্তম কার্বন নির্গমনকারী দেশের মধ্যে, যদি আমরা প্রতি বাসিন্দার কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন অনুযায়ী বিচার করি, তাহলে উত্তরে ও দক্ষিণে এটি সমানসংখ্যক।
আমরা কি অভিবাসন পার্থক্যের কথা বলছি? অভিবাসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে ঘটে। রাজনৈতিক বিভাজন? উত্তর ও দক্ষিণ উভয় ক্ষেত্রেই যারা সমষ্টিগত সমাধান সমর্থন করে এবং এর বিপরীতে যারা বৈশ্বিক বিষয়গুলো থেকে সরে আসার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে একটি বিভাজন রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ উভয়েরই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ উভয়েরই কিছু দেশ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং কিছু দেশ তা লঙ্ঘন করে।
হ্যাঁ, আমরা একটি খণ্ডিত পৃথিবীতে বাস করছি, কিন্তু এটি কি উত্তর ও দক্ষিণের ভৌগোলিক বিভাজনের লাইন বরাবর হচ্ছে? অবশ্যই না। জাতিসংঘও এই কৃত্রিম বিভাজনকে স্বীকৃতি দেয় না। এটি সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন এমন দেশগুলোর শ্রেণিবিভাগে গুরুত্ব দেয়।
বাস্তব বিভাজনের লাইন হলো সেই লাইন, যারা আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে, তাদের সঙ্গে বাকিদের আলাদা করে। জি-২০ বৈঠক এবং অন্যসব জায়গায় আমাদের আলোচনা হওয়া উচিত উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সংঘাত নিয়ে নয়, বরং আইনের সমর্থকদের এবং শক্তির ক্ষমতার সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন নিয়ে।
জ/বা