ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব নামে এক মাদরাসাশিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই শিক্ষার্থী টানা চার দিন মাদরাসায় অনুপস্থিত ছিল। বুধবার সকালে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব তাকে বাড়ি থেকে মাদরাসায় নিয়ে আসেন। পরে মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে শিশুটি আহত হলে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়।
পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে নবীনগর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব। তিনি বলেন, ‘আসলেই ছাত্রের ওপর মাইরটা মারাত্মক বেশি হয়ে গেছে। মারার সময় আমার রাগটা ধরে রাখতে পারিনি। এজন্য আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী।’
মাদরাসার অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এমন ঘটনা এর আগে কখনো এই মাদরাসায় ঘটেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব নাথ বলেন, স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ/বা