প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, এসব বিষয়কে ‘অস্ত্রায়ন’ করা হলে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সুফল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ, বর্তমান বিশ্বে কোনো সংকটই আর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে (১৩ সেপ্টেম্বর) রোববার দেওয়া বক্তব্যে মোদি এসব কথা বলেন। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো উপস্থিত ছিলেন।
মোদি বলেন, বিশ্বে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখিয়েছে যে পরস্পরনির্ভর এই বিশ্বে কোনো সংকটই আর একটি অঞ্চলের মধ্যে আটকে থাকে না।
তিনি বলেন, এ কারণে ব্রিকসের মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা বা সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো সময়মতো চিহ্নিত করা, সেগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মোদি বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও সেগুলোর মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ব্রিকস দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এ ব্যবস্থার আওতায় আগাম সতর্কতার তথ্য সমন্বয়ের নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কাজের চারটি মূল স্তম্ভ হিসেবে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতায় এসব অভিন্ন লক্ষ্যকে পারস্পরিক লাভজনক উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এর আগে ব্রিকস নেতারা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর আগে যৌথ ছবি তোলেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মোদির দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিসর, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
জ/রা