প্রায় এক শতাব্দী আগে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে তাসমানিয়ান টাইগার বা থাইলাসিন। যুগের পর যুগ ধরে এই প্রাণীকে নেকড়ের মতো ভয়ংকর এবং গবাদিপশু শিকারি হিসেবে মনে করা হতো। তবে দীর্ঘ সময় পর বিলুপ্ত প্রাণীটির মাথার খুলি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, গবাদিপশু হত্যার যে অপবাদ তাদের ওপর দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল ভুল ধারণার ফল। সেই অপবাদই শেষ পর্যন্ত প্রাণীটির বিলুপ্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাসমানিয়ান টাইগারের সর্বশেষ প্রাণীটি ১৯৩৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যায়। সম্প্রতি ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এদের মাথার খুলি ও চোয়ালের গড়ন বর্তমানে জীবিত যেকোনো মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় বেশ আলাদা।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. ভেরা উইসবেকার জানান, তাসমানিয়ান টাইগার কুকুরের তুলনায় বরং ক্যাঙারুর সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল।
তাদের খুলি ধূসর নেকড়ের মতো বড় হলেও মুখাবয়ব বা থোতা ছিল শিয়ালের মতো সরু। লম্বা চোয়ালের এই গড়ন বড় গবাদিপশু শিকারের চেয়ে খরগোশের মতো ছোট প্রাণী দ্রুত শিকার করার জন্য বেশি উপযোগী ছিল। এমনকি এদের খুলির কার্যপ্রণালির সঙ্গে কুমিরের মতো মাছ শিকারি প্রাণীরও কিছুটা মিল পাওয়া যায়।
গবেষকদের মতে, ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের সময় তাসমানিয়ান টাইগারকে নেকড়ের মতো প্রাণী মনে করে গবাদিপশু হত্যার জন্য দায়ী করা হতো। অথচ বন্য কুকুর ও মানুষের অব্যবস্থাপনার কারণে গবাদিপশু মারা গেলেও সেই দায় চাপানো হতো এই প্রাণীটির ওপর। ভুল ধারণার ভিত্তিতে তাসমানিয়ান টাইগারকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়।
এদিকে, বর্তমানে জেনেটিক্স ও ডিএনএ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিলুপ্ত তাসমানিয়ান টাইগারকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: সিএনএন
জ/উ