ঢাকাই চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাদির খান সিনেমা জগৎ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
রূপালি পর্দার দীর্ঘ পথচলায় অজান্তে হওয়া ভুলত্রুটির জন্য সহকর্মী ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি কেবল আল্লাহর ইবাদতেই কাটিয়ে দিতে চান।
মৃত্যুর চিরন্তন সত্যকে শান্ত মনে মেনে নিয়ে অভিনেতা প্রায় ২০ বছর আগেই নিজের শেষ ঠিকানা নির্ধারণ করে রেখেছেন। ঢাকার রায়ের বাজারের প্রেমতলায় প্রস্তুত করে রাখা সেই কবরের পাশে প্রায়ই তিনি গিয়ে দাঁড়ান, পরম যত্নে নিজ হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন।
মৃত্যুর অনুভূতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, মহান আল্লাহ ও তার রসুলকে (সা.) যারা ভালোবাসেন, তারা মৃত্যুকে ভয় পান না। তবে তার বিশেষ আকুল আবেদন- নিজের কবরকে যেন কোনোভাবেই মাজারের রূপ না দেওয়া হয়, সাধারণ মানুষ হিসেবেই যেন সবাই তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন।
অত্যন্ত মাতৃভক্ত এই গুণী শিল্পী মনে করেন, জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন সবই তার মায়ের দোয়ার বরকত। পরকালে মায়ের সঙ্গে পুনরায় দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নাদির খানের শেষ ইচ্ছা- মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন সর্ব প্রথম তার প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসিতে (BFDC) নিয়ে যাওয়া হয়।
যৌবনের সোনালী দিনগুলো যাদের সাথে কাটিয়েছেন, সেই সহকর্মী ও চলচ্চিত্র পরিবারের মানুষজন যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেন এবং জানাজায় অংশ নিতে পারেন।
১৯৫২ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার রায়েরবাজারে জন্মগ্রহণ করা এই প্রবীণ অভিনেতা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় সাড়ে তিনশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
'বেদের মেয়ে জোছনা', 'কসাই', 'ইতিহাস', 'কাবুলিওয়ালা'র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমার মাধ্যমে তিনি দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এছাড়া 'গরীবের বিচার নাই', 'রঙিন রসের বাইদানী'র মতো সফল চলচ্চিত্র তিনি প্রযোজনাও করেছেন।