চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে পুলিশ পরিচয়ে একটি বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালানোর পর নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এক নারী ও তার দুই পুত্রবধূর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি ও বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন আজ বুধবার ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী হালিশহর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাখাওয়াত হোসেন (৪০), মো. মাইনউদ্দিন (৪৬), মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ও বাবুল (৩৬)কে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারী তার দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। তার স্বামী ও দুই ছেলে কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। এ সময় পাঁচ ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তারা বাসার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালাতে শুরু করেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ওই নারী ও তার দুই পুত্রবধূ তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। তখন ওই ব্যক্তিরা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের দাবি, বাসাটিতে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা সেখানে এসেছেন।
একপর্যায়ে পাঁচ ব্যক্তি মুঠোফোনে ওই নারী ও তার দুই পুত্রবধূর ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। ওই নারী বাসাটি তার নিজের বলে জানালেও তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি ও বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে আসামিরা বাসায় ভাঙচুর চালান। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। এ সময় তাদের সঙ্গেও ওই ব্যক্তিরা হুমকিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে হালিশহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচ ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ দুজনকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হালিশহর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রথমে নিজেদের পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জ/উ