মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং এ অঞ্চলে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চার বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এটিই তার প্রথম সফর। ওয়াশিংটন ও ইরানের চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এ অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বেইজিং।
আজ বুধবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন শি জিনপিং। সফরে কায়রো বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শি। একই সঙ্গে তিনি এ অঞ্চলে একটি নতুন ‘নিরাপত্তা স্থাপত্য’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সুয়েজ খাল, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং।
মিসর বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে এবং ঐতিহ্যগতভাবে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষাসঙ্গী দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কায়রো চীনের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও বাড়িয়ে চলেছে।
বৈশ্বিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে মিসর কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে বলে সফরের আগে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট সিসি। সাবেক মিসরীয় কূটনীতিকদের মতে, বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চায় কায়রো। তাদের মতে, এই অবস্থান চীনের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্র: রয়টার্স
জ/উ