জবাবদিহি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-09-02T21:50:01+06:00
2026-09-02T21:50:01+06:00
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
সাহায্যের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম 
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জলবায়ুজনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। কাঠমান্ডুর দাবি, বিশ্বের বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা হয়। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নেপালের অন্তত তিনটি জেলার গ্রাম ভাসিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ১০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, দুর্যোগের পর সহায়তাকে শুধু ‘ত্রাণ’ হিসেবে দেখলে হবে না। বিষয়টিকে ‘নৈতিক দায়’ ও ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে দেখতে হবে।

কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেপাল এখন কূটনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনছে। ‘সহায়তা’র বদলে দেশটি ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দাবি তুলছে।

খানাল বলেন, নেপাল বৈশ্বিক উষ্ণায়নে প্রায় কোনো অবদান না রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতির মধ্যে পড়েছে। হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগ তারই পরিণতি।

তিনি বলেন, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এসব দেশের ঐতিহাসিক দায় রয়েছে নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি কোনো দাতব্য বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে নেপাল আরও জোরালোভাবে বিষয়টি তুলবে। বিশেষ করে হিমালয়ের হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার পানির নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

খানালের দাবি, হিমালয়ের হিমবাহগুলো বিলীন হয়ে গেলে গঙ্গা ও ত্রিশূলীর মতো নদীর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটির বেশি মানুষের পানির নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

এদিকে নেপালের অর্থ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর নেপাল ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বা জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত তহবিলের বোর্ডের কাছেও জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে ও বন ও কৃষিমন্ত্রী গীতা চৌধুরী যৌথভাবে চিঠিতে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ধ্বংস হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতির মাত্রা এতটাই ব্যাপক যে তা নেপালের তাৎক্ষণিক মোকাবিলা সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

জলবায়ু ন্যায্যতার প্রশ্নে ভারতও দীর্ঘদিন ধরে উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়ের কথা বলে আসছে। নয়াদিল্লির যুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনের দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশগুলোর ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণ, উন্নয়নের প্রয়োজন ও সক্ষমতার পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ভারত উন্নয়নশীল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে দেশটি বলে আসছে, শিল্পায়নে এগিয়ে থাকা উন্নত দেশগুলোই ঐতিহাসিকভাবে বৈশ্বিক কার্বন বাজেটের বড় অংশ ব্যবহার করেছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করা তাদের দায়িত্ব।

জ/রা





  বিষয়:   আন্তর্জাতিক  নেপাল  ক্ষতিপূরণ  বন্যা 



Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]