রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে পুলিশের মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, আসামিদের প্রকাশ্যে আনা এবং ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ও আলামত সংরক্ষণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকটি বক্তব্য ও ঘটনাস্থলে ঘটে যাওয়া কিছু বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
এক আসামির পরনের শার্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ময়নাতদন্তের আগেই পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পর ঘটনাস্থলের ছাদে পানি পড়ার ঘটনায় আলামত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়েও পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, লাইট জ্বালাতে গিয়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ভুল করে পানি ছাড়ার সুইচ চালু করে ফেলেন। তবে একই সময়ে লাইটের সুইচ ও পানি তোলার মোটরের সুইচ কোথায়, সে বিষয়েও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না বলে প্রশ্ন ওঠে।
লাইট জ্বালানোর সুইচ এবং পানি তোলার মোটরের সুইচ একই জায়গায় কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রংপুর ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সেটা তো দেখতে হবে তাহলে।’ এর আগে অবশ্য তিনিই জানিয়েছিলেন, লাইট জ্বালাতে গিয়ে ভুল করে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা মোটরের সুইচ চালু করে ফেলেছিলেন।
অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের দাবি, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় অন্ধকার বাড়ির ছাদ থেকে পানি পড়তে দেখে তিনি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান। এ সময় পুলিশ তাকে ঘটনাটি গোপন রাখার অনুরোধ করে বলে দাবি করেন তিনি। পরে নিজেকে আসামির ভাই হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয় বলেও জানান পার্থ।
পার্থ দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদটি পানিতে ভেজা দেখা যায়। তবে ছাদের একটি অংশ শুকনো ছিল। ওই সময় ছাদ মুছে ফেলার কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে মোটরের সুইচ দিয়ে ফেলছে, ওরা চেনে না তো। মোটর চলছে, পরে পানি পড়া দেখে উপরে গিয়ে বন্ধ করছে। এখানে কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নেই।’
এর আগে গত ২২ আগস্ট রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী মামলা করেন। পরে প্রতিবেশী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
তবে আসামিদের পোশাকের মিল নিয়ে ওঠা প্রশ্ন, ক্রাইমসিনের নিরাপত্তা ও আলামত সংরক্ষণ নিয়ে অভিযোগ এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিছু বক্তব্যের মধ্যে অসংলগ্নতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয় পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জ/উ