জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-09-02T21:24:05+06:00
2026-09-02T21:24:05+06:00
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আইন-আদালত
তনু হত্যা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম 
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পৃথকভাবে তাদের বিরুদ্ধে এ রেড নোটিশ জারি করা হয়। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পলাতক দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত, তাদের অবস্থান নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধের পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে ইন্টারপোল মঙ্গলবার দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরবর্তী সময়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের নমুনা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান অজ্ঞাত এবং তারা পলাতক রয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় মো. জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট হিসেবে এবং মো. শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তনু হত্যা মামলায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে যান সোহাগী জাহান তনু। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ইয়ার হোসেন তখন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন; বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত।

মামলার তদন্তের শুরুতে তনুর মৃত্যুর কারণ নিয়েও জটিলতা দেখা দেয়। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। উভয় প্রতিবেদনেই তনুর মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। পলাতক দুই অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের আইনের আওতায় আনতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]