ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পাশের সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ময়েনদিয়া বাজারে জিহাদ গ্রুপের সোলায়মান মাতুব্বরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।
খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ূন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর অনুসারীরা মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের ওপর পাল্টা হামলা চালালে ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা আশপাশের গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষ রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে পরমেশ্বরদী গ্রামের কবির মোল্যা, কামরুল মোল্যা ও লোকমান মোল্যার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত উভয় পক্ষের নেতাদের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
জ/উ