জামালপুর শহরের কাচারিপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে রিমা আক্তার (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদ আলীর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিমা আক্তার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি এলাকার শহিদুল্লাহর মেয়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রিমা যে কক্ষে থাকতেন, সেটি গত দুই থেকে তিন দিন ধরে বন্ধ ছিল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাসার মালিকপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে কক্ষটির দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রিমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে রিমা আক্তারের স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে পুলিশের মধ্যে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে। বাসার মালিকের রেজিস্টারে তার বাড়ির ঠিকানা মাদারগঞ্জ উপজেলা উল্লেখ রয়েছে। তবে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা জাতীয় পরিচয়পত্রে বাড়ির ঠিকানা ইসলামপুর উপজেলা লেখা রয়েছে। কোনটি তার প্রকৃত ঠিকানা, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাসার মালিকের ছেলে জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি যতটুকু জানি, মেয়েটি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে পড়ত। এর বেশি আমি কিছু জানি না। মেয়ে মানুষ তো, তাই বেশি খোঁজখবর রাখিনি।”
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দুই থেকে তিন দিন আগে মারা গেছেন। মরদেহ ফুলে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাড়ির রেজিস্টারে মেয়েটির ঠিকানা মাদারগঞ্জ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার ঘরে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে ভিন্ন ঠিকানা রয়েছে। বাকি বিষয়গুলো ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
জ/উ