পটুয়াখালী সংবাদদাতা

দেশজুড়ে

2026-08-26T20:56:33+06:00
2026-08-26T20:56:33+06:00
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের
পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম 
রাস্তা নেই, নেই পর্যাপ্ত নৌযানের ব্যবস্থাও। চারদিকে একের পর এক খাল। তাই শীত, বর্ষা কিংবা বসন্ত বারো মাসই খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। নিত্যদিনের এই দুর্ভোগে অনেকেই স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এমনই চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

একই অবস্থা বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চিনতাবাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ১২টি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ১৮০ ফুট প্রশস্ত বমু খালের ওপর নেই কোনো সেতু। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে শতাধিক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

গলাচিপা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চরকারফারমা গ্রামের অবস্থান। সেখানে যেতে হলে প্রথমে বোয়ালিয়া স্লুইস গেটে যেতে হয়। এরপর প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে আগুনমুখা নদীর তীরে খেয়াঘাটে পৌঁছাতে হয়। খেয়া পার হয়ে কারফারমা ঘাট থেকে অন্তত পাঁচটি খাল পেরিয়ে যেতে হয় চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

যোগাযোগের জন্য কোনো সড়ক না থাকায় জালের মতো ছড়িয়ে থাকা খালগুলোই স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুলগামী শিশুদের।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলে, ‘আমার বাড়ি চরকারফারমার শেষ সীমানা ফরেস্টের পাশে। বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে পাঁচটা খাল সাঁতরে আসতে হয়। প্রতিদিন ৭-৮ জন একসঙ্গে খাল সাঁতরে স্কুলে আসি। বেশি বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়।’

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন বলে, ‘বৃষ্টি আর খালের পানিতে শরীর সারা দিন ভেজা থাকে। এতে শরীর খারাপ করে। বেশি খারাপ লাগলে কয়েক দিন বাড়িতেই থাকি। আমাদের একটা নৌকা আছে। কিন্তু ওই নৌকা দিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়, তাই খাল সাঁতরে স্কুলে আসি।’

চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শাহিদা বেগম বলেন, এই চরে প্রায় ৮০টি পরিবার বাস করে। আমি জায়গা দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু রাস্তা করার সামর্থ্য আমার নেই। অন্তত স্কুলে যাতায়াতের জন্য হলেও রাস্তাঘাট করা দরকার।

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, স্কুলে যাওয়ার রাস্তা নেই, কথাটি সত্য। আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবশ্যই রাস্তা নির্মাণের জন্য দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগীর বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। রাস্তা না থাকায় স্কুলের শিক্ষার্থী কমে গেছে। বিষয়টি ইউএনও ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর ইজাজুল হক বলেন, সামনের বরাদ্দ দিয়ে স্কুলে যাওয়ার উপযোগী একটি রাস্তা করে দেব।

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চিনতাবাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কম নয়। প্রায় ১৮০ ফুট প্রশস্ত বমু খালের ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসাইন বলেন, অন্তত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে হলেও এখানে একটি ব্রিজ খুবই প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকার জনপ্রতিনিধি মেনচিং মুরুং বলেন, এলজিইডি লামা উপজেলার প্রকৌশলীরা ব্রিজ নির্মাণের জন্য বেশ কয়েকবার মেপে গেছেন। কিন্তু পরে আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?

চিনতাবাপাড়ার কারবারি লাঙি মুরুং বলেন, বমু খালের ওপর একটি ব্রিজ হওয়া খুবই দরকার। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের খাল পার হয়ে পড়াশোনা করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

লামা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে একটু সময় লাগবে। আশা করছি, একটা ব্যবস্থা হবে।

দুই উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের চিত্রই বলছে, যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা। দ্রুত সড়ক ও সেতু নির্মাণ করা না হলে তাদের শিক্ষাজীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

জ/শা






Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]