সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাবিত একটি চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং ‘এপি১০০০ রিঅ্যাক্টর’ নির্মাণের সুযোগ পাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।
কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শীর্ষস্থানীয় পারমাণবিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউসও রয়েছে।
কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের ৯০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। তবে কংগ্রেস চুক্তিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ ও ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
এরপর সৌদি আরবকেও ওই প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প ও জো বাইডেন—দুই প্রশাসনই। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
সৌদি আরবের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
এদিকে চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে আগের কিছু চুক্তির মতো কঠোর বিধিনিষেধ নেই। ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।
২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত।
সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত চুক্তিতে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় এর নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জ/উ