ভাগিনার এলএলএমে ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খন্দকার আহমেদ আল ইরফান। তাঁকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান এই আইনজীবী। পরে তাঁর আইনজীবী সমিতির আইডি কার্ড, মানিব্যাগ, ঘড়ি, এটিএম কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে জিডির প্রেক্ষিতে পুলিশ মোবাইলসহ মালামাল উদ্ধার করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
এপিপি খন্দকার আহমেদ আল ইরফানের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রভোস্ট বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে যারা
লিখিত অভিযোগে জকসুর নেতা সাদমান সাম্য, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কামরুজ্জামান সিয়াম এবং মার্কেটিং বিভাগের রেহমান মুস্তাফিজের নাম রয়েছে। এ ছাড়া জীবন হোসেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জয় সাহা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৌফিক আনাম এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাহারুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সাদমান সাম্য ও মাহিদসহ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরেন। কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তাঁকে মারধর শুরু করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
আহমেদ আল ইরফান জানান, হামলার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রয়েছে। তাঁর দাবি, এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ডিজিটাল ফরেনসিক-সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জিডির পর মালামাল উদ্ধার
ঘটনার পর ৮ আগস্ট কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আহমেদ আল ইরফান। জিডি নম্বর ৪২৬। জিডির পর পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধার করে ফেরত দেয়। তবে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাধীন আইনজীবী।
ভিসির আশ্বাসে মামলা করেননি
ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন, বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তারেক বিন আতিকসহ কয়েকজন শিক্ষক। সে সময় তাঁকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করা হয় এবং জড়িতদের যথাযথ শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়।
আহমেদ আল ইরফানের ভাষ্য, প্রশাসনের আশ্বাসের কারণে তিনি আলাদাভাবে মামলা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে তিনি আলাদা মামলা করতে চান না।
একজন আইনজীবী ও সরকারি কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হওয়ায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে হামলার অভিযোগ সত্য হলে তা শিক্ষাঙ্গনের সহনশীল পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। এখন ভুক্তভোগীর অপেক্ষা—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।
জ/বা