নিউজ ডেস্ক

অপরাধ

2026-08-10T11:45:19+06:00
2026-08-10T11:45:19+06:00
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
অপরাধ
বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুট: মূল পরিকল্পনাকারী নারী!
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম 
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এক নারীকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কয়েক দিন ধরে বিকাশের টেকনাফ এজেন্সির সেলসম্যানদের গতিবিধি নজরদারি করে ঘটনার দিন তাদের অনুসরণ এবং ডাকাত দলের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে লুট হওয়া টাকার মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, আদালত সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ডাকাতির শিকার বিকাশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নারী টেকনাফের লেদা এলাকায় সক্রিয় একটি সশস্ত্র ডাকাত চক্রের নেতৃত্ব দেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তার আপন ভাইকে প্রধান করে কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবককে নিয়ে চক্রটি গড়ে উঠেছে বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির বিরুদ্ধে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য, গত ২ আগস্ট বিকাশের সেলসম্যানরা যে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন, সেদিন ওই নারীও ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। টাকা উত্তোলনের পর তিনি অটোরিকশায় করে সেলসম্যানদের বহনকারী যাত্রীবাহী বাসটিকে অনুসরণ করেন।

পরে মোবাইল ফোনে পাহাড়ে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে সেলসম্যানদের অবস্থান ও গতিপথের তথ্য দেন বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। ওই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডাকাতরা বাসটির গতিরোধ করে টাকা লুট করে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, ডাকাতির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে আয়াজ নামে এক রোহিঙ্গা এবং লেদা এলাকার হোসেন আলী টেকনাফের বিচারিক হাকিম নাজমুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে লেদা এলাকার আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামের নাম জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া অপর এক নারীই কথিত পরিকল্পনাকারী কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ বলছে, ডাকাত চক্রের প্রায় সব সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। কথিত পরিকল্পনাকারী নারীকে ঘিরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানান, লুট হওয়া টাকার একটি অংশ দিয়ে ওই নারীর বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। ডাকাতির পর টাকা ভাগাভাগির আগেই একটি স্বর্ণের দোকানে সুদসহ বকেয়া পরিশোধ করে স্বর্ণ ফেরত নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

যেভাবে লুট হয় ৫৭ লাখ টাকা

গত ২ আগস্ট টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তর পাশে ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে সশস্ত্র ডাকাতরা। এ সময় বিকাশের দুই সেলসম্যানের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করা হয়। ডাকাতরা গুলি ও হামলা চালিয়ে সেখানে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা ডাকাতির ঘটনায় অগ্রগতি রয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য বলা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু টাকাসহ আমরা বেশ কয়েকজনকে আটক করেছি। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।’

জ/উ






Loading...
Loading...
অপরাধ - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]