জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

অপরাধ

2026-08-08T20:40:53+06:00
2026-08-08T20:40:53+06:00
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
অপরাধ
ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ঘিরে প্রশ্ন: নাটক নাকি পূর্বপরিকল্পিত হামলা?
ওসির অপসারণে মিছিলেও ‘বাইরের লোক’ থাকার অভিযোগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম 
ফাইল ছবি
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সোহেলের ওপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটিকে ‘মব’ বা গণপিটুনির ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে নানা ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

এ ঘটনার পর খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপর মামলা না নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। এরপর ওসির অপসারণের দাবিতে মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও রহস্য তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তারা চিনতে পারেননি।

সিসিটিভিতে হামলার দৃশ্য: ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাংবাদিক তারিন আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম নন্দীপাড়ায় রড, পাইপ, ইট ও লাঠি দিয়ে সোহেলের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারী রতন, খোকন, মাসুম, ওয়াহিদ, কাউসার, হাবিব ও রাফির সাথে আরও কয়েকজন ছিল। পরিবারের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে সোহেলকে মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে একদল লোকের মারধরের দৃশ্য রয়েছে। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও হামলা অব্যাহত ছিল। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার পর সোহেলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতলের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে সোহেল এখন পর্যন্ত কোমায় রয়েছে বলেও জানান তারা। 

ব্যবসা দখলের বিরোধ: হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। তার শ্বশুরও ইট, বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। পরে একই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন সোহেল। স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। ব্যবসা থেকে চাঁদা দাবি করা হলেও সোহেল তা দিতে রাজি হননি। এরপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি এবং হয়রানিমূলক মামলা করা হয়। এসব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ব্যবসা দখল বা চাঁদা দাবির অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় কারো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মামলা ঠেকাতে চাপ, পরে ওসির বিরুদ্ধে মিছিল: পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর মামলা গ্রহণ না করতে থানার ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য থাকায় শেষ পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করা হয়। পরে ওসির অপসারণের দাবিতে একটি মিছিল বের হয়। স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া অনেককে তারা আগে কখনো এলাকায় দেখেননি। এ কারণে বাইরে থেকে লোক এনে মিছিল করানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মিছিলটি কারা আয়োজন করেছে, অংশগ্রহণকারীরা কোথা থেকে এসেছেন এবং তাদের সঙ্গে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, এগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পুরোনো মামলা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ: সোহেলের বিরুদ্ধে আগে করা মামলার তথ্য ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। তার দাবি, সোহেল কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সোহেলের স্ত্রী তারিন আক্তার জানান, সিসিটিভি ফুটেজের ফরেনসিক পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, মিছিলের ভিডিও পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হলে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন রতনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় আগের অনেকগুলো মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মামলা নম্বর ৫০/২০২৫, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ এবং মামলা নম্বর ৬৩/২০২৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ উল্লেখ করেন তিনি। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা এবং বর্তমান হামলার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তে যেসব প্রশ্ন: ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, হামলাটি তাৎক্ষণিক, নাকি পূর্বপরিকল্পিত? সিসিটিভিতে থাকা ব্যক্তিরা কারা? মামলা ঠেকাতে কারা থানায় চাপ দিয়েছিল? ওসির অপসারণের দাবিতে মিছিলটি কারা সংগঠিত করেছিল? মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কোথা থেকে এসেছিলেন? আর পুরোনো মামলাগুলোর সঙ্গে বর্তমান হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না? হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। 

এখন মূল প্রশ্ন, এটি কি সত্যিই আকস্মিক কোনো ‘মব’ ঘটনা, নাকি ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত হামলা? নাকি হামলার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে ‘মবের নাটক’ সাজানোর চেষ্টা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আলামতভিত্তিক অনুসন্ধানেই।


জ/বা





Loading...
Loading...
অপরাধ - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]