প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সাংগঠনিক সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার চট্টগ্রামের তিনটি সাংগঠনিক ইউনিটের মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এটা তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন। এই দর্শনকে ধারণ করেই তিনি দেশ ও দলকে এগিয়ে নিতে চান।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সফরের সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড, বাবুনগর মাদ্রাসা, হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথের সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রাখতেই এই সফর।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।
সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা ও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জ/বা