দিনাজপুরের কাহারোলে ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী কান্তজিউ মন্দির ও নয়াবাদ জামে মসজিদ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের সার্বিক আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শনে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী মিসেস ডিয়ান ডাও এবং প্রটোকল অফিসার ক্লারিয়ান।
মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ট্রাস্টি ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এবং এজেন্ট রনজিৎ কুমার সিংহর নেতৃত্বে কমিটির সদস্য ডা. ডিসি রায়, রতন সিং ও বিমল চন্দ্র দাস রাষ্ট্রদূতকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয়, ক্রেস্ট এবং লোকসংস্কৃতির নকশাখচিত ব্যাগ উপহার দেন।
এরপর ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীদের কান্তজিউ মন্দিরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিক সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মন্দির প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখান। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিখে রাখেন।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মল্লিকা দাস ও তাঁর সঙ্গীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বরণ করে নেন। একই সময়ে মন্দির প্রাঙ্গণে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা নৃত্য পরিবেশন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূতকে অভ্যর্থনা জানান। পরে কান্তজিউ মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এরপর তিনি আরতি অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মনজুরুল ইসলাম, রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ এবং কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেন।
উল্লেখ্য, কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও দর্শনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এই মন্দির টেরাকোটার অনন্য কারুকাজের জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
জ/উ