ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটিকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ, পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসা এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানকে পুরোপুরি বয়কট করা উচিত। একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা’ শক্তিশালী বা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণে এমন আচরণ করছে না; বরং তারা অত্যন্ত দুর্বল ও মরিয়া হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে খুব শিগগিরই ইরানভিত্তিক গত ৫১ বছরের দীর্ঘ হুমকি থেকে মুক্ত একটি নতুন বিশ্ব দেখা যাবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবেন না তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ৫১ বছর ধরে ইরানি শাসকগোষ্ঠী রক্তপাত ও গণহত্যার মাধ্যমে শাসন চালিয়ে আসছে। তাদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরেও মৃত্যু, ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় তারা মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডা বা ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে এখন আর সেই অবস্থানে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন। পারমাণবিক কর্মসূচি ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের বিনিময়ে ইরানকে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তা গ্রহণে কোনোভাবেই রাজি হয়নি। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি ছিল ইরানের ‘মস্ত বড় ভুল’। সূত্র: আল জাজিরা
জ/উ