ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনিকে ইঙ্গিত করে ‘নাম নিতেও রুচিতে বাধে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, কিছু তারকা সমাজকে কলুষিত করছেন এবং তরুণদের বিপথে পরিচালিত করছেন।
একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির সঙ্গে সাংবাদিকের অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক রাজুর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
সাংবাদিক রাজুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজুকে আমি চিনি, অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার সঙ্গে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ঘৃণা প্রকাশ করছি। এসব তারকা, আমি নাম না বলি—নাম নিতে আসলে রুচিতে বাধে। এসব তারকা সমাজকে কলুষিত করছে, সমাজকে নষ্ট করছে, সমাজকে বিপথগামী করছে। আর আমি মনে করি, সমাজের অন্যায়-অপরাধগুলো জাতির সামনে তুলে ধরছেন সমকালের সাংবাদিক রাজুরা।’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘রাজুরা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় একজন সাংবাদিক হিসেবে কীভাবে ভূমিকা রাখতে হয়, কত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা রাজু দেখিয়েছেন। রাজু একজন বীর জুলাই যোদ্ধা। তাঁর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে এবং তাঁকে যেভাবে দোষারোপ করা হয়েছে, আমি মনে করি, অবশ্যই এর বিচার হওয়া দরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষ, তরুণ সমাজ এবং সব জুলাই যোদ্ধা সাংবাদিক জুলাই যোদ্ধা রাজুর সঙ্গে রয়েছি। আমি রাজুকে বলতে চাই, আপনি একা নন, আমরা সবাই আপনার ভাই। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাজুর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার দাবি করছি।’
উল্লেখ্য, আলোচিত বোট ক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় একজন তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজু নামের ওই সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ১০ জন বডিগার্ডও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরীমনি তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বলেন, ‘এমন প্রশ্নই ওঠে না। নামার সময় দ্বিতীয়বার আমাকে দেখে তিনিই বরং হাত ধরে টেনে নিয়ে যান। এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে যান চিত্রনায়িকা পরীমনি। পরে জামিন পেয়ে আদালত থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও ওঠে।
জ/শা