ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ: প্রযুক্তিমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-11-03T17:32:38+06:00
2026-11-03T17:32:38+06:00
মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ: প্রযুক্তিমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৫:৩২ পিএম | ৩ নভেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে চান না তিনি। নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশার কথা জানান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বর্তমানে সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে এক ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে যেতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি জানান, এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্পের মাধ্যমে টারবাইন ঘোরানো হবে। এরপর জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে উৎপাদন শুরুর আগে আরও বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়া না গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে আবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। প্রয়োজনে একই প্রক্রিয়া দুই, তিন কিংবা চারবারও অনুসরণ করা হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না।

মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগোলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না তিনি। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পের কারিগরি অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলেও জানান মন্ত্রী। আগে এ কার্যক্রমে প্রায় ৪৯ জন রাশিয়ান বিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রথমে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

প্রথম ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

জ/দি


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত