বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের রেকর্ড সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি এ অভিযোগকে ‘অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন দাবি’ বলে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন ও দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো-জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘জঘন্য চেষ্টা’ চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), সিক্রেট সার্ভিস এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি, বাইন্যান্সে এই সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়া জড়িত। তাদের মতে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা।
এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকার গ্রুপ ট্রেডারট্রেটর এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে। গ্রুপটি লাজারাস গ্রুপ নামেও পরিচিত।
এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইবিটে ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংয়ের ঘটনায়ও এই গ্রুপকে দায়ী করা হয়েছিল। সে সময় ওই ঘটনাটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
এদিকে লাজারাস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন বন্ধ করতে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।
উত্তর কোরিয়ার জেনারেল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক কিম ইয়ো-জং বলেন, বাইন্যান্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে জড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও উসকানিমূলক আচরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত সব ধরনের সাইবার অপরাধের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার শামিল। এটি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বাইন্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তবে হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে দেওয়া বিবৃতিতে মূলত নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, হামলার প্রযুক্তিগত দিক এবং ব্যবহারকারীদের সম্পদ সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ এবং পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
জ/শা