ডায়াবেটিস হলে ফল খাওয়া বন্ধ করতে হবে, আর চিনির বদলে মধু খেলেই নিরাপদ-এমন ধারণা অনেকের। তবে এসব ধারণা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পরিপাকতন্ত্রের বিশেষজ্ঞ ডা. পালানিয়াপ্পান মানিকাম। তাঁর মতে, শুধু চিনি খাওয়াই ডায়াবেটিসের একমাত্র কারণ নয়।
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা শরীরের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। রোগটি সম্পর্কে ভুল ধারণা সঠিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ডা. মানিকাম জানান, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকা থেকে ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে। তবে খাবারের ধরন ও পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শুধু ওষুধ খেলেই খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর না দিলেও চলবে-এমন ধারণাও ভুল। একইভাবে, অতিরিক্ত ওজন না থাকলেও একজন ব্যক্তির ডায়াবেটিস হতে পারে।
ডা. মানিকামের মতে, শুধু কার্ডিও বা হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন ব্যায়াম করলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে গুড়, মধু কিংবা বাদামি চিনিকেও পুরোপুরি নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়। এসব উপাদানও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। একইভাবে, করলার রস ডায়াবেটিস সারিয়ে দেয় বা রোগের অবস্থা আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেয়-এমন দাবিরও যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যসেবা মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারে কারও ডায়াবেটিস থাকলে অন্য সদস্যদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও ডায়াবেটিস হতে পারে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে অতিরিক্ত ওজন, প্রিডায়াবেটিস বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তে শর্করার মাত্রা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) এবং গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস। বয়স বাড়ার সঙ্গেও এ ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে ৪৫ বছরের পর। কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার গ্রহণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফল বা অন্য কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জ/উ