প্রাণপণ চেষ্টা করেও জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের বোলারদের দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করে জয়ের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ৭ উইকেট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারেনি টাইগাররা। ফলে পাঁচ দিনের লড়াই শেষে দুই দলের একমাত্র টেস্টটি ড্র হয়েছে।
শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ৩৪৭ রান। সেই রান পেরিয়ে জয় তুলে নিতে না পারলেও উইকেট ধরে রেখে ড্র নিশ্চিত করে আফগানরা।
আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদি ও সেদিকুল্লাহ আতালের জুটিতে দিনের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটে। পায়ে ব্যথা পাওয়ায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন হাশমতউল্লাহ। তবে ইকরাম আলিখিল ও ইসমত আলমকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান আতাল। দুই ব্যাটারের সঙ্গে যথাক্রমে ৬৬ ও ৪০ রানের জুটি গড়েন তিনি। এর মধ্যে একটি জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন, অন্যটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন সেদিকুল্লাহ আতাল। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। একই সঙ্গে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করা প্রথম আফগান ব্যাটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন এই ব্যাটার।
১৬৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ২৭৭ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান সেদিকুল্লাহ। তাইজুল ইসলামের শিকার হওয়ার আগে ৩৩২ বলে ১১১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর এই ইনিংস আফগানিস্তানকে ড্রয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেয়।
সেদিকুল্লাহ আউট হওয়ার সময়ও খেলা বাকি ছিল ২১ ওভার। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট। কিন্তু পরপর দুই বলে রানআউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে টাইগাররা। ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় উইকেট পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়, পাশাপাশি সহজ ক্যাচও মিস হয়।
আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েও ইয়ামিন আহমেদজাই ও কায়েস আহমেদের জুটি ভাঙতে বেগ পেতে হয় বাংলাদেশকে। দুজন মিলে ১১০ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত মেহেদি হাসান মিরাজ আহমেদজাইকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
এরপর আরও ৩০ বল খেলা হলেও বাকি দুই উইকেট তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জিয়াউরকে সঙ্গে নিয়ে কায়েস আহমেদ ৮০ বলে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত এই জুটির দৃঢ়তায় ড্র নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ সাফল্য পান এবাদত হোসেন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দুজনই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
জ/উ