স্কোপাসভিত্তিক এলসেভিয়ার–স্ট্যানফোর্ড তথ্যভাণ্ডারের সাহিত্য অধ্যয়ন শাখায় বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষকের নাম পাওয়া যায়নি। ২০২১ থেকে ২০২৫- এ পাঁচ উদ্ধৃতিবর্ষের তালিকা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান উপশাখা হিসেবে সাহিত্য অধ্যয়নে যেমন বাংলাদেশের উপস্থিতি নেই, তেমনি দ্বিতীয় উপশাখা হিসেবেও বাংলাদেশের কোনো গবেষক তালিকায় নেই।
জনপ্রিয়ভাবে ‘স্ট্যানফোর্ডের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা’ নামে পরিচিত তথ্যভাণ্ডার সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬। গবেষণা প্রকাশনা ও উদ্ধৃতির তথ্যভাণ্ডার স্কোপাসের তথ্যের ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়। এতে ২০২৫ সালের উদ্ধৃতি ধরে এক বছরের গবেষণা-প্রভাব এবং গবেষণা জীবনের সামগ্রিক প্রভাব আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
এই নিবন্ধের জন্য করা হিসাব অনুযায়ী, সাহিত্য অধ্যয়ন বা Literary Studies শাখায় বার্ষিক ও গবেষণা জীবনভিত্তিক তালিকা মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে ৫৯৪টি গবেষক-পরিচিতি রয়েছে।
তালিকাটি কোনো পুরস্কার নয়। গবেষণা কতবার অন্য গবেষণায় উদ্ধৃত হয়েছে, এইচ-ইনডেক্স, সহলেখকত্ব বিবেচনায় সমন্বিত সূচক এবং সমন্বিত সি-স্কোরের মতো মানদণ্ডের ভিত্তিতে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। এইচ-ইনডেক্স গবেষকের প্রকাশনা ও উদ্ধৃতির একটি যৌথ সূচক। সি-স্কোরে উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রভাবের পাশাপাশি সহলেখকত্ব ও লেখক হিসেবে অবস্থানের তথ্যও বিবেচিত হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বশেষ তালিকায় সাহিত্য অধ্যয়ন শাখায় এশিয়া থেকে ১৫টি গবেষক-পরিচিতি রয়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে চারটি এবং ভারত থেকে তিনটি। ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং, তুরস্ক ও ইসরায়েল থেকে রয়েছে একটি করে।
দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি পরিচিতিই ভারতের গবেষকদের। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষকের নাম পাওয়া যায়নি। ভারতের তিন গবেষকের তথ্যেও প্রকাশনা ও উদ্ধৃতির পরিমাণ দেখা যায়। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রমোদ কে. নায়ারের স্কোপাস পরিচিতিতে নথিভুক্ত প্রকাশনা ১৬১টি। তার গবেষণা ২০২৫ সালে ১৫০ বার এবং ১৯৯৬–২০২৫ সময়ে ১ হাজার ৩ বার উদ্ধৃত হয়েছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌতম কর্মকারের প্রকাশনা ৯০টি। ২০২৫ সালে তার গবেষণা উদ্ধৃত হয়েছে ৭৪ বার। উত্তর প্রদেশের চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ ইরফানের প্রকাশনা ১২০টি এবং ২০২৫ সালে উদ্ধৃতির সংখ্যা ২৮০।
তিনজনের পরিচিতিতে মোট প্রকাশনা ৩৭১টি। ২০২৫ সালে তাদের মোট উদ্ধৃতি ৫০৪। তবে এগুলো সংশ্লিষ্ট গবেষকদের স্কোপাস পরিচিতিতে থাকা সব বিষয়ের প্রকাশনা ও উদ্ধৃতির হিসাব; শুধু সাহিত্য অধ্যয়নের নিবন্ধ নয়। প্রকাশনার সংখ্যাগুলোও কেবল ২০২৫ সালের নয়।
তালিকায় দেশের হিসাব করা হয়েছে গবেষকের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতির ভিত্তিতে। ফলে এটি নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকা নয়। অর্থাৎ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গবেষকের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এই হিসাব থেকে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
এই তালিকা গবেষণার সামগ্রিক গুণমানের চূড়ান্ত বিচার করে না। এটি মূলত স্কোপাসে তালিকাভুক্ত গবেষণা, উদ্ধৃতি, এইচ-ইনডেক্স, সহলেখকত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে গবেষণার দৃশ্যমান প্রভাব দেখায়।
বাংলাদেশে সাহিত্য অধ্যয়ন বিষয়ে বছরে মোট কতটি স্কোপাসভুক্ত গবেষণা প্রকাশিত হয়, এই তালিকা তা সরাসরি জানায় না। সে হিসাব জানতে স্কোপাসে দেশ, বিষয় ও সময়সীমাভিত্তিক আলাদা অনুসন্ধান প্রয়োজন।
সাহিত্য গবেষণার অনেক কাজ বই, বইয়ের অধ্যায়, স্থানীয় ভাষার সাময়িকী বা আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়। ফলে স্কোপাসভিত্তিক এই তালিকা বাংলাদেশের সাহিত্য গবেষণার সম্পূর্ণ চিত্র নয়। তবে আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডারে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের সাহিত্য গবেষণার উপস্থিতি ও উদ্ধৃতিভিত্তিক দৃশ্যমানতা নিয়ে এটি একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র দেয়।
জ/উ