টাঙ্গাইলে হানিট্র্যাপের সিন্ডিকেট, টার্গেটে সরকারি কর্মকর্তা-ধনাঢ্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপরাধ

2026-10-01T19:56:45+06:00
2026-10-01T19:56:45+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
অপরাধ
টাঙ্গাইলে হানিট্র্যাপের সিন্ডিকেট, টার্গেটে সরকারি কর্মকর্তা-ধনাঢ্যরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
⏲ ৭:৫৬ পিএম | ১ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ভাড়া বাসায় ডেকে এনে জিম্মি, মাদক সেবনে বাধ্য করা, বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং মারধরের পর ব্ল্যাংক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় এই চক্রটি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরও টার্গেট করে আসছে। ভুক্তভোগীদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের অন্তত পাঁচটি ভাড়া বাসাকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্যের একটি চক্র কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রের নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সখ্য গড়ে তুলে ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কক্ষে প্রবেশের পরপরই চক্রের পুরুষ সদস্যরা সেখানে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি ও নির্যাতন করতেন।

সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাননি বলে জানা গেছে। তবে প্রবাসে থাকা এক ভুক্তভোগী মুঠোফোনে সংবাদকর্মীদের জানান, তিনিও ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে লক্ষাধিক টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

সম্প্রতি চক্রটির অন্যতম সক্রিয় সদস্য ও নার্সিং শিক্ষার্থী বৃষ্টি ইসলাম এক সাংবাদিকের কাছে চক্রটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, নিজেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে পরিচয় দিয়ে গত দুই বছর ধরে তিনি এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বৃষ্টির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের নেপথ্যে নাগরপুর উপজেলার দিয়া ও তার স্বামী সদ্য সাবেক সেনাসদস্য আরাফাত রহমান, স্থানীয় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক ও কথিত রাজনৈতিক নেতা উজ্জ্বলসহ প্রশাসনের নাম ভাঙানো কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চক্রটির বিরুদ্ধে শুধু হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং নয়, মরণঘাতী ‘আইস’ ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বড় চালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণীদের প্রথমে কৌশলে মাদকে আসক্ত করা হতো। পরে তাদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে এবং মাদক কারবারিদের সন্তুষ্ট করতে ব্যবহার করা হতো। ভীতি প্রদর্শনের জন্য চক্রটির সদস্যদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, চক্রটির কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্তে আরাফাত রহমানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার পর সংবাদকর্মী ফিরোজ নয়নকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং চক্রটির কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সচেতন মহল ও কথিত ভুক্তভোগীরা টাঙ্গাইল শহরের এসব আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। 

জ/উ



Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত