রাতের ঢাকায় গুলি, রামদা আর লাঠিসোঁটা হাতে হামলা। ভাঙচুরের পর লুটে নেওয়া হলো নগদ টাকা, রড, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জাম। তছনছ করা হলো কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও। পুলিশকে লক্ষ্য করেও ছোড়া হলো গুলি। সেই সশস্ত্র হামলার মামলায় এবার গ্রেপ্তার হলেন অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর জেনারেল।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। তাঁর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি কেবল একটি সশস্ত্র হামলার মামলা হিসেবে নয়, বরং এর পরিকল্পনা ও নেপথ্যে কারা ছিলেনষ্ণসেই প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনুমানিক ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রকল্পে ঢোকে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে পিস্তল, শটগান, রিভলবার, রামদা, ছুরি, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল। কয়েক দফা গুলিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন।
এরপর হামলাকারীরা ঢুকে পড়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও। ভাঙচুর করা হয় স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম; লুট করে নেওয়া হয় ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ মালামাল। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিধ্বস্ত স্টুডিওর ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। মুহূর্তেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
তবে হামলার পরিমাণ শুধু স্টুডিওতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রধান ফটক ও অফিসে গুলি ও ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় নগদ ২৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড, একটি স্কুটারসহ বিভিন্ন মালামাল। বাদী পক্ষের হিসাবে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শটগানের পাঁচটি গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভৃঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা শাহরিয়ারসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিজানুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মামুন, আসলাম ও মুন্না নামের আরও তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার এখন তদন্তে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছেষ্ণ৫০ জনের মতো সশস্ত্র লোক কীভাবে একত্র হলো, হামলার নির্দেশনা কোথা থেকে এলো এবং এত বড় হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
তদন্ত এগোলে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া কোনো ব্যক্তিকেই অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না।
জ/বা