তৃতীয় টার্মিনাল দুর্নীতি মামলায় তারিক সিদ্দিককে দুদকের তলব

জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-09-29T18:19:02+06:00
2026-09-29T18:19:02+06:00
বুধবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আইন-আদালত
তৃতীয় টার্মিনাল দুর্নীতি মামলায় তারিক সিদ্দিককে দুদকের তলব
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৬:১৯ পিএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে তাকে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ্র তারিক সিদ্দিকের কাছে তলবের নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদকের ওই কর্মকর্তা বলেন, তারিক সিদ্দিককে তার ঠিকানায় পাওয়া যায়নি। এমনকি তার অধীনস্থ কাউকেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে একজন নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নোটিশটি সেখানে লটকিয়ে জারি করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার আওতায় তারিক সিদ্দিকের বক্তব্য ‘শ্রবণ ও গ্রহণের’ জন্য এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর ৮৩ নম্বর মামলায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে। মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি।

মামলায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
তলবের নোটিশে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের ভাষ্য, মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ অভিযোগের বিষয়ে তারিক সিদ্দিকের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-স্মারক দাখিলের জন্য সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ্রকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি দেশের তিন বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে মোট ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তারিক সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলা করা হয় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে। ওই মামলায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মুহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক ও সুপারিনটেনডেন্ট হাবিবুর রহমান।

এ ছাড়া অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মালিক লুৎফুল্লাহ মাজেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম, প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম বা এডিসিকে। দুদকের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালকে বেআইনিভাবে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে প্রকল্পে যুক্ত করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল। দুদকের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

আরও তিন প্রকল্পে মামলা
একই দিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিএনএস-এটিএম সিস্টেমসহ রেডার স্থাপন প্রকল্প থেকে ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি মামলা করে দুদক।

এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে আরও দুটি মামলা করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তারিক সিদ্দিক, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও চারটি মামলা করে দুদক।

তারিক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে করা ওই মামলায় ২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ২৩২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার চারটি ব্যাংক হিসাবে ৬২ কোটি ৬০ হাজার ৯৮৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও করে দুদক।

শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন তারিক সিদ্দিক
২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার পরিবারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক।

এর আগে গুমের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের তালিকায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তারিক আহমেদের নামও রয়েছে।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত