মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে তেহরানের একটি হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সদস্য মোহসেন হায়দারি গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কাতারি টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। খবর গালফ নিউজের।
হায়দারি বলেন, আগের কয়েকটি হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তেহরানের ওই হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়। তার ভাষায়, ‘আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তেহরানের তিনটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। পরে সেখানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাকে উদ্ধার করতে হয়।’
এই হামলার পর থেকে সর্বোচ্চ নেতাকে একটি গোপন জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে কোনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। বিমান হামলার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা অব্যাহত রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হায়দারি আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ওপরও হামলা চালানো হয়। কোমে অবস্থিত সংস্থাটির সচিবালয়ে বোমার আঘাতে আটজন নিহত হন। এই হামলায় নেতৃত্ব নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সুপারিশের ফাইলপত্র বিনষ্ট হয়।
হামলার মুখে অ্যাসেম্বলির সদস্যরা কাগজেই নিজেদের ভোট লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য তাদের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
হায়দারি জানান, অ্যাসেম্বলির প্রথম সদস্য হিসেবে তিনিই মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আল আরাবিকে তিনি বলেন, খামেনি নেতৃত্ব দেয়ার মতো সুস্থ রয়েছেন। এই পদের জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও নেতৃত্বসুলভ যোগ্যতা তার রয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোট ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন খামেনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮টি ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
জ/রা